ভিটামিন-ডি পেতে ভাদ্র মাসে রোদে থাকবেন কতক্ষণ?

ছবি সংগৃহীত

 

লাইফস্টাইল ডেস্ক : কেউ বলে দুপুর রোদে থাকতে নেই, ত্বক পুড়ে যাবে। কেউ বলে এসময় রোদে থাকলে শরীর ভিটামিন-ডি পাবে। অনেকে পরামর্শ দেন, ঘরে-বাইরে সবসময় সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে।

 

আবার কেউ বলছে এত বাড়াবাড়ি ভালো নয়। তাহলে কোনটা ছেড়ে কোনটা শুনবেন? আর ভিটামিন-ডি’র ঘাটতি পূরণ করতে কখন রোদে দাঁড়াবেন? এসব বিভ্রান্তি দূর করে আজ জেনে নিন গবেষণা কী বলে।

আমাদের শরীর সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন-ডি তৈরি করে। এর জন্য লাগে সূর্যের এক বিশেষ ধরনের আলো অতিবেগুনি রশ্মি। এ রশ্মির আবার দুই ধরনের প্রভাব আছে-

 

১. আল্ট্রাভায়োলেট (ইউভিএ): এটি ত্বকের ভেতরে ঢুকে যায়। ত্বক কালো করে, বয়স বাড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করতে পারে।

 

২. আল্ট্রাভায়োলেট বি (ইউভিবি): এটিই আসলে ভিটামিন-ডি তৈরির কাজ করে। তবে অতিরিক্ত হলে সানবার্ন, এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কোন সময়টি আদর্শ?

২০১০ সালের একটি গবেষণা বলছে, সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন-ডি তৈরির সবচেয়ে কার্যকর সময় হলো বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। তাই দুপুরের কাছাকাছি সময়ে বেলা ১১টা থেকে ১টার মধ্যে ৫-১৫ মিনিট রোদে থাকলেই যথেষ্ট। এই সময় সূর্য থাকে মাথার ওপর, তাই ইউভিবি বেশি আসে। ফলে এ সময় অল্প সময়ের মধ্যেই শরীর ভিটামিন-ডি তৈরি করতে পারে।

 

আবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সূর্যালোক সবচেয়ে তেজি। এই সময় দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকলে তা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সানবার্ন, অকাল বার্ধক্য, এমনকি ত্বকের ক্যানসারও তরান্বিত হতে পারে।

অর্থাৎ রোদে দাঁড়িয়ে ভিটামিন-ডি তৈরির বিষয়টা আসলে দিনের সময়ের ওপর নির্ভর করে না। কারণ যে সময়টা সবচেয়ে কার্যকর, সেটিই আবার সবচেয়ে ক্ষতিকর হতে পারে। এটি মূলত নির্ভর করে আপনার ত্বকের ধরন ও কতক্ষণ রোদে থাকছেন তার ওপর। তাই ভিটামিন-ডি’র জন্য অল্প সময়ে রোদে দাঁড়ালেও বেশিক্ষণ থাকা মোটেই ঠিক নয়।

সবাই কি সমান সময় রোদে থাকবে?

সবার জন্য আবার রোদে থাকার সময় এক নয়। ত্বকে মেলানিনের পরিমাণের ওপর এই সময়টি নির্ভর করে। দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ মানুষের ত্বক শ্যামলা। শ্যামলা ত্বকে মেলানিনের পরিমাণ বেশি হওয়ায় তা ইউভি রশ্মিকে বাধা দেয়। তাই ফর্সা ত্বকের অধিকারীদের তুলনায় শ্যামলা ত্বকের অধিকারীদের বেশি সময় রোদে দাঁড়ানো দরকার। ২০১৯ সালের একটি গবেষণা বলছে-

>> দক্ষিণ এশীয় গাঢ় ত্বকে ভিটামিন-ডি তৈরি হতে কিছুটা বেশি সময় লাগে।
>> প্রায় ৫ থেকে ১৫ মিনিট হাত-পা খোলা রেখে সপ্তাহে ২-৩ রোদে দিন দাঁড়ালেই অনেকের জন্য যথেষ্ট।
>> ত্বকের কোনো সুরক্ষা ছাড়া এর চেয়ে বেশি সময় দাঁড়ালে ঝুঁকি বেশি, লাভ কম।
>> রোদ পোহানোর সময় মুখ ছাড়া হাত, পা, পিঠ এই অঙ্গগুলোতে রোদ লাগানোর চেষ্টা করুন।

সবসময় সানস্ক্রিন লাগিয়ে রাখা কি জরুরি?

না, কারণ সানস্ক্রিনের একটি প্রধান কাজ হলো আপনার ত্বককে ইউভি রশ্মি থেকে রক্ষা করা। তাই ভিটামিন-ডি তৈরির উদ্দেশ্যে রোদে গেলে অল্প সময়ের জন্য সানস্ক্রিন না লাগানোই ভালো। তাছাড়া অনেকক্ষণ রোদে বসে থেকেও আপনি যথেষ্ট ভিটামিন-ডি পাবেন না। তবে দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে বা ইউভি সূচক বেশি থাকলে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

তাহলে সকালের রোদ কি উপকারী নয়?

সকালে রোদ পোহাতে আরাম লাগে এ কথা সত্য। কিন্তু শান্ত আর কোমল মনে হলেও সকালের রোদে ইউভিবি থাকে খুবই কম। ফলে ভিটামিন-ডি তৈরি হতে অনেক বেশি সময় লাগে, আর দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলে মোট ইউভি ডোজ বেড়ে গিয়ে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।

ভাদ্র মাসের বাস্তবতা

ভাদ্র মাসে বাংলাদেশের আকাশে মেঘ-বৃষ্টি খেলাধুলা করে। মেঘ থাকলে ইউভিবি কমে যায়, আবার হঠাৎ মেঘ সরে গেলে সূর্যের তেজ দ্বিগুণ মনে হয়। তাই ভাদ্রে রোদে বের হওয়ার আগে একবার ইউভি সূচক দেখে নেওয়া ভালো।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ইউভি সূচক ৩ বা তার বেশি থাকলে বাইরে টুপি, ছাতা, সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য সরাসরি রোদ এড়িয়ে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন-ডি সাপ্লিমেন্ট দেওয়া নিরাপদ।

ওয়েবসাইটে এবং স্মার্টফোনে আবহাওয়া সংক্রান্ত অ্যাপ ব্যবহার করে ইউভি সূচক জানা যাবে সব সময়।

বাংলাদেশে শহুরে জীবনে দীর্ঘক্ষণ ঘরে থাকা, বায়ুদূষণ, ও সানস্ক্রিন ব্যবহারের কারণে অনেকের ভিটামিন-ডি ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। তাই এ বিষয়ে সচেতনতা জরুরি। অন্যদিকে শিশু, বয়স্ক বা যারা বাইরে কম যান, তাদের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে।

সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ওয়েব এ.আর. (২০১৮), পাবমেব

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» অন্তর্বর্তী সরকার কোনো চুক্তি নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেনি : জামায়াত আমির

» পুলিশ সদস্যদের জীবনে নৈতিকতা ও সদাচরণ গড়ে তুলতে হবে: আইজিপি

» রোজায় সবজির বাজারে স্বস্তি, লেবু-শসা নেমেছে অর্ধেকে

» শনিবার যেসব এলাকায় টানা ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না

» ‘ঘরের মধ্যে অদ্ভুত জাদু অনুভব করেছিলাম’

» হাজারো প্রাণের বিনিময়ে গণতন্ত্রের ধারায় ফিরেছে বাংলাদেশ : রাষ্ট্রপতি

» ইরান দূতাবাসের শোক বইতে স্বাক্ষর করলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল

» ত্বকীর হত্যার ১৩ বছর: এখনও জমা পড়েনি চার্জশিট, বিচারহীনতায় ক্ষুব্ধ পরিবার

» রমজানের তৃতীয় জুমায় বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের ঢল

» ইউটিউব বিজ্ঞাপনে বিরক্ত? জেনে নিন এড়ানোর কার্যকর উপায়

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

ভিটামিন-ডি পেতে ভাদ্র মাসে রোদে থাকবেন কতক্ষণ?

ছবি সংগৃহীত

 

লাইফস্টাইল ডেস্ক : কেউ বলে দুপুর রোদে থাকতে নেই, ত্বক পুড়ে যাবে। কেউ বলে এসময় রোদে থাকলে শরীর ভিটামিন-ডি পাবে। অনেকে পরামর্শ দেন, ঘরে-বাইরে সবসময় সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে।

 

আবার কেউ বলছে এত বাড়াবাড়ি ভালো নয়। তাহলে কোনটা ছেড়ে কোনটা শুনবেন? আর ভিটামিন-ডি’র ঘাটতি পূরণ করতে কখন রোদে দাঁড়াবেন? এসব বিভ্রান্তি দূর করে আজ জেনে নিন গবেষণা কী বলে।

আমাদের শরীর সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন-ডি তৈরি করে। এর জন্য লাগে সূর্যের এক বিশেষ ধরনের আলো অতিবেগুনি রশ্মি। এ রশ্মির আবার দুই ধরনের প্রভাব আছে-

 

১. আল্ট্রাভায়োলেট (ইউভিএ): এটি ত্বকের ভেতরে ঢুকে যায়। ত্বক কালো করে, বয়স বাড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করতে পারে।

 

২. আল্ট্রাভায়োলেট বি (ইউভিবি): এটিই আসলে ভিটামিন-ডি তৈরির কাজ করে। তবে অতিরিক্ত হলে সানবার্ন, এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কোন সময়টি আদর্শ?

২০১০ সালের একটি গবেষণা বলছে, সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন-ডি তৈরির সবচেয়ে কার্যকর সময় হলো বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। তাই দুপুরের কাছাকাছি সময়ে বেলা ১১টা থেকে ১টার মধ্যে ৫-১৫ মিনিট রোদে থাকলেই যথেষ্ট। এই সময় সূর্য থাকে মাথার ওপর, তাই ইউভিবি বেশি আসে। ফলে এ সময় অল্প সময়ের মধ্যেই শরীর ভিটামিন-ডি তৈরি করতে পারে।

 

আবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সূর্যালোক সবচেয়ে তেজি। এই সময় দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকলে তা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সানবার্ন, অকাল বার্ধক্য, এমনকি ত্বকের ক্যানসারও তরান্বিত হতে পারে।

অর্থাৎ রোদে দাঁড়িয়ে ভিটামিন-ডি তৈরির বিষয়টা আসলে দিনের সময়ের ওপর নির্ভর করে না। কারণ যে সময়টা সবচেয়ে কার্যকর, সেটিই আবার সবচেয়ে ক্ষতিকর হতে পারে। এটি মূলত নির্ভর করে আপনার ত্বকের ধরন ও কতক্ষণ রোদে থাকছেন তার ওপর। তাই ভিটামিন-ডি’র জন্য অল্প সময়ে রোদে দাঁড়ালেও বেশিক্ষণ থাকা মোটেই ঠিক নয়।

সবাই কি সমান সময় রোদে থাকবে?

সবার জন্য আবার রোদে থাকার সময় এক নয়। ত্বকে মেলানিনের পরিমাণের ওপর এই সময়টি নির্ভর করে। দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ মানুষের ত্বক শ্যামলা। শ্যামলা ত্বকে মেলানিনের পরিমাণ বেশি হওয়ায় তা ইউভি রশ্মিকে বাধা দেয়। তাই ফর্সা ত্বকের অধিকারীদের তুলনায় শ্যামলা ত্বকের অধিকারীদের বেশি সময় রোদে দাঁড়ানো দরকার। ২০১৯ সালের একটি গবেষণা বলছে-

>> দক্ষিণ এশীয় গাঢ় ত্বকে ভিটামিন-ডি তৈরি হতে কিছুটা বেশি সময় লাগে।
>> প্রায় ৫ থেকে ১৫ মিনিট হাত-পা খোলা রেখে সপ্তাহে ২-৩ রোদে দিন দাঁড়ালেই অনেকের জন্য যথেষ্ট।
>> ত্বকের কোনো সুরক্ষা ছাড়া এর চেয়ে বেশি সময় দাঁড়ালে ঝুঁকি বেশি, লাভ কম।
>> রোদ পোহানোর সময় মুখ ছাড়া হাত, পা, পিঠ এই অঙ্গগুলোতে রোদ লাগানোর চেষ্টা করুন।

সবসময় সানস্ক্রিন লাগিয়ে রাখা কি জরুরি?

না, কারণ সানস্ক্রিনের একটি প্রধান কাজ হলো আপনার ত্বককে ইউভি রশ্মি থেকে রক্ষা করা। তাই ভিটামিন-ডি তৈরির উদ্দেশ্যে রোদে গেলে অল্প সময়ের জন্য সানস্ক্রিন না লাগানোই ভালো। তাছাড়া অনেকক্ষণ রোদে বসে থেকেও আপনি যথেষ্ট ভিটামিন-ডি পাবেন না। তবে দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে বা ইউভি সূচক বেশি থাকলে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

তাহলে সকালের রোদ কি উপকারী নয়?

সকালে রোদ পোহাতে আরাম লাগে এ কথা সত্য। কিন্তু শান্ত আর কোমল মনে হলেও সকালের রোদে ইউভিবি থাকে খুবই কম। ফলে ভিটামিন-ডি তৈরি হতে অনেক বেশি সময় লাগে, আর দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলে মোট ইউভি ডোজ বেড়ে গিয়ে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।

ভাদ্র মাসের বাস্তবতা

ভাদ্র মাসে বাংলাদেশের আকাশে মেঘ-বৃষ্টি খেলাধুলা করে। মেঘ থাকলে ইউভিবি কমে যায়, আবার হঠাৎ মেঘ সরে গেলে সূর্যের তেজ দ্বিগুণ মনে হয়। তাই ভাদ্রে রোদে বের হওয়ার আগে একবার ইউভি সূচক দেখে নেওয়া ভালো।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ইউভি সূচক ৩ বা তার বেশি থাকলে বাইরে টুপি, ছাতা, সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য সরাসরি রোদ এড়িয়ে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন-ডি সাপ্লিমেন্ট দেওয়া নিরাপদ।

ওয়েবসাইটে এবং স্মার্টফোনে আবহাওয়া সংক্রান্ত অ্যাপ ব্যবহার করে ইউভি সূচক জানা যাবে সব সময়।

বাংলাদেশে শহুরে জীবনে দীর্ঘক্ষণ ঘরে থাকা, বায়ুদূষণ, ও সানস্ক্রিন ব্যবহারের কারণে অনেকের ভিটামিন-ডি ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। তাই এ বিষয়ে সচেতনতা জরুরি। অন্যদিকে শিশু, বয়স্ক বা যারা বাইরে কম যান, তাদের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে।

সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ওয়েব এ.আর. (২০১৮), পাবমেব

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com